নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের বদরগঞ্জে র্যাব ও পুলিশের অভিযানে ভানচালক হত্যা মামলায় এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে নওগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার গোপাল ব্যানার্জি বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব।
স্থানীয়রা জানায়, গত বছরের ৫ এপ্রিল টিনের দোকানঘর নির্মাণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে লাভলু মিয়া নামে এক কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়। ঘটনার দিন রংপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মমিনুলসহ ৫ জন। একই সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আরেক মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা ফিরোজ শাহ ও তার অনুসারীরা। আদালত প্রাঙ্গণে ফিরোজ শাহের অনুসারীদের সঙ্গে মমিনুল গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিশোধ নিতে মমিনুল ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ফিরোজ শাহের বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায়। এরপর ফিরোজ শাহের পক্ষের লোকজনও প্রতিপক্ষের সন্ধানে বের হয়। বিকেল চারটার দিকে বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড় এলাকায় প্রতিপক্ষের সদস্য ভেবে ভ্যানচালক আরিফুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনায় নিহত আরিফুল ইসলামের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার বিকেলে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফ নেওয়ার জোহা ও সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান সুজন বিজ্ঞপ্তিতে গোপাল ব্যানার্জি ও বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটকে বহিষ্কার করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গোপাল ব্যানার্জি তিনটি হত্যা মামলার এবং মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট চারটি হত্যা মামলার আসামি।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান সুজন বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কারও সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক থাকতে পারে না।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, গোপাল ব্যানার্জিকে রাতেই বদরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।